তানিয়া ওহাব
Published : Saturday, 26 May, 2018 at 4:32 PM, Count : 206
চলুন না আজ থেকে শুরু করি

চলুন না আজ থেকে শুরু করি

একটা ঘটনা শেয়ার করি। কিছুদিন আগের কথা।বনানীতে এক বান্ধবীর সাথে একটা রেস্টুরেন্ট এ খেতে গিয়েছি। বান্ধবী দেশের বাইরে থাকে। ওয়েস্টার্ন পোশাকে সে এসেছিল। কথা, আড্ডাবাজীর মাঝে এক বোরখা পরা মেয়ে রেস্টুরেন্ট এ ঢুকলো। ওকে দেখে আমার সামনে বসা বান্ধবী মন্তব্য করলো, এরকম বোরখা পরা মেয়ে দেখলে তার খুব উইয়ার্ড লাগে। তার নাকি মনে হয় এরা জংগী টাইপ। আমি শুনলাম। খাবার দিল। আমি হাত ধুতে গিয়ে দেখি বোরখা পরিহিতা মেয়েটা বেসিনের সামনে দাঁড়িয়ে ছিল। আমাকে দেখে তানিয়া বলে চিৎকার দিয়ে জড়িয়ে ধরলো। আমি চিনলাম। ও আমার বান্ধবী, অনেক দিন যোগাযোগ নাই। আমাকে জিজ্ঞেস করলো, কি একটা বেত্তমিজ মেয়ের সাথে বসে আছিস, কাপড় চোপড়ের ঠিক নাই।
আমি ওর হাত ধরে আমার আগের বান্ধবীর কাছে নিয়ে আসলাম। দুজন দুজনকে একপলক দেখলো। তারপর চিৎকার করে জড়িয়ে ধরলো। কারণ ওরা খুব ঘনিষ্ঠ বান্ধবী ছিল। বলা যায় প্রাণের বন্ধু। একজন দেশের বাইরে আরেকজন কিছুটা সংসার কেন্দ্রিক হওয়ার কারনে তাদের এতদিন দেখা হয় নাই। তারপর তিন জন বসলাম একসাথে। বাকি দুজন ই ক্ষমা চাইলো, কারন ওরা না জেনে একে অপরকে নিয়ে নেগেটিভ মন্তব্য করেছিল। প্রথম বান্ধবী বল্লো, ও জীবনে কোন বোরখা পরা মেয়ে নিয়ে কোন নেগেটিভ কমেন্ট বা তাচ্ছিল্য করবে না, আর দ্বিতীয় বান্ধবী ও বল্লো, ও জীবনে কোন টাইট ফিট পোশাকের কাউকে দেখলে ঘৃণার দৃষ্টিতে দেখবে না।
আমি এই কাহিনী বললাম, আমরা অনেক কে নিয়ে অনেক মন্তব্য করি। কিন্তু কাছের বা প্রিয় মানুষ কে নিয়ে আমরা কোন নেগেটিভ কিছু শুনতে পছন্দ করি না। আমরা একেকজন মানুষ একেক রকম পরিবার, সমাজ,  একেকভাবে বড় হয়েছি। আমার চোখে যা খারাপ তা আরেকজনের কাছে খারাপ না ও হতে পারে।
আমরা খুব পরনিন্দা কারী জাতিতে পরিণত হচ্ছি। এখন আমরা মৃত ব্যাক্তিকেও ছাড় দেই না। আমি অনেক গুলো চ্যাট গ্রুপে আছি। সেখানে বেশির ভাগই রোজা রাখে।তবু দেখি, পরচর্চা চলছেই। রোজার সংযম কিন্তু শুধু খাবার না খেয়ে থাকা নয়। পরনিন্দা থেকে বের হওয়া খুব দরকার। এটা নিজের জন্যই। যখনি কাউকে নিয়ে নেগেটিভ কিছু বলার চিন্তা হবে, দয়া করে চিন্তা করুন তো আপনার নিজের কি কোন দোষ নেই। এমন কিছু কি নেই, যেটা জানলে আপনি লজ্জিত হতে পারেন!
এই রোজাতে চলুন না শপথ করি, অন্তত কাউকে নিয়ে কোন নেগেটিভ কথা বলব না। কেউ বলতে চাইলেও তাকে থামিয়ে দেব। দেখি না চেষ্টা করে, কারো ভুল ধরে তাকে আঘাত করব না। নিয়্যত করি, রোজার এ কটা দিন মেনে চলার। আমি কথা দিচ্ছি, মন থেকে শান্তি পাবেন। কাউকে নিয়ে নেগেটিভ চিন্তা বা কথা বললে, নিজের মনেও সেটার নেগেটিভ প্রভাব পড়ে।
চলুন না আজ থেকে শুরু করি। কারো গীবত করব না। কাউকে আঘাত দিয়ে কথা বলব না।
আমি নিয়্যত করলাম।আপনি/আপ্নারা করবেন তো!

লেখক: নারী উদ্যোক্তা


« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
সম্পাদক ও প্রকাশক: নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, বাড়ি ৭/১, রোড ১, পল্লবী, মিরপুর ১২, ঢাকা- ১২১৬
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: newsnotunsomoy@gmail.com
Developed & Maintainance by i2soft