নতুন সময় প্রতিবেদক
Published : Monday, 14 May, 2018 at 7:51 PM, Count : 66

৫ সেঞ্চুরি করে এক টাকাও পাননি আশরাফুলঢাকা প্রিমিয়ার লিগে অসাধারণ খেলেছেন। লিগে সর্বোচ্চ ৫ সেঞ্চুরি করেছেন। মোহাম্মদ আশরাফুলের এই দুর্দান্ত পারফরম্যান্সও তাঁর দল কলাবাগান ক্রীড়া চক্র অবনমন ঠেকাতে পারেনি। দল অবনমনে নেমে গেছে সে লজ্জা তো আছেই, বোঝার ওপর শাকের আঁটি হিসেবে যোগ হয়েছে পারিশ্রমিক দেওয়া না দেওয়া নিয়ে ক্লাব কর্তৃপক্ষের টালবাহানা।

শুধু আশরাফুল কেন, এই চিন্তা তাঁর সতীর্থদেরও। কাল মিরপুরে বিসিবি কার্যালয়ে পারিশ্রমিক না দেওয়ার অভিযোগ জানিয়ে আসেন প্রথম বিভাগে নেমে যাওয়া কলাবাগান ক্লাবের কয়েকজন ক্রিকেটার। তাঁদের অভিযোগ মোহাম্মদ আশরাফুল, জসীম উদ্দিন, সানজিত সাহা ও আবু বকরকে নাকি কোনো টাকাই দেয়নি ক্লাবটি। বাকিরাও কেউ অর্ধেকের বেশি পাননি।

যেহেতু আশরাফুলকে ধরে রেখেছিল কলাবাগান, প্লেয়ার ড্রাফটের নিয়ম অনুযায়ী ক্লাব কর্তৃপক্ষকে তাঁর প্রাপ্য পারিশ্রমিকের ৫০ শতাংশ টাকা অগ্রিম জমা দিতে হয়েছিল বোর্ডকে। গত প্রিমিয়ার লিগে কলাবাগানের সঙ্গে আশরাফুলের চুক্তি ছিল ১৮ লাখ টাকা। সে অনুযায়ী ৯ লাখ টাকার একটি চেক ইস্যু হয় আশরাফুলের নামে। গত ডিসেম্বরে এই চেকটা আশরাফুল পেয়েছিলেনও। যদিও তখন তাঁকে টাকা ওঠাতে মানা করা হয়। পরে প্লেয়ার ড্রাফট অনুযায়ী আশরাফুলের পারিশ্রমিক দাঁড়ায় ১৫ লাখ টাকা। কিন্তু এখনো কোনো পারিশ্রমিক পাননি বলেই কাল মুঠোফোনে দাবি আশরাফুলের, ‘এক পয়সাও পাইনি। তারা শুধু তারিখ দিয়ে যাচ্ছে। প্রথমে যে ৯ লাখ টাকার চেকটা পেয়েছিলাম, টাকা তুলতে পারেনি। তাদের অ্যাকাউন্টে টাকাই তো নেই!’

বিসিবির প্রধান নির্বাহী নিজাম উদ্দিন চৌধুরীর কাছে অভিযোগ জানিয়ে কলাবাগান ক্রিকেটারদের একজন নাবিল সামাদ সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, বাজে পারফরম্যান্সের কারণে ক্রিকেটারদের ১৫ শতাংশ টাকা কেটে রাখার কথা আগেই বলেছিল ক্লাব। ক্লাবের প্যাডে তাঁদের চিঠি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ক্লাবের সঙ্গে সম্পর্ক খারাপ হওয়ার ভয়ে পাল্টা জবাব না দিয়ে সম্মতিসূচক স্বাক্ষর করেন তাঁরা। ‘তাঁরা বলেছিলেন, এর উত্তর না দিলেও চলবে। এটা ক্লাব থেকে খেলোয়াড়দের কেবল একটা হুঁশিয়ারি’, বলেছেন নাবিল।

আরেক ক্রিকেটার তাসামুল হক বাকি ৫০ শতাংশ টাকা দাবি করে বলেছেন, ‘টাকা কেটে নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।’ কলাবাগানের দাবি, খেলোয়াড়েরা আর শুধু ১০ শতাংশ টাকাই পাবেন। ক্লাবের ক্রিকেট কমিটির সম্পাদক রিয়াজ আহমেদ কাল প্রথম আলোকে মুঠোফোনে জানিয়েছেন, খেলোয়াড়দের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে কলাবাগানকে চিঠি দিয়েছে বিসিবি। সেটির জবাবে ক্রিকেটারদের স্বাক্ষরসংবলিত কাগজ বিসিবিতে জমা দেওয়া হয়েছে।

শুধু তা-ই নয়, কলাবাগানের হয়ে খেলা কয়েকজন ক্রিকেটার লিগে ম্যাচ পাতানোর সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলেও তাঁর সন্দেহ। ক্রিকেটাররা যেমন বিসিবির দ্বারস্থ হয়েছেন, কলাবাগান ক্রীড়া চক্রও চায় বিষয়টির নিষ্পত্তি বিসিবির মধ্যস্থতায় হোক। বিসিবির প্রধান নির্বাহী নিজাম উদ্দিন জানিয়েছেন, বিষয়টি দ্রুতই সমাধান করার চেষ্টা করবেন তাঁরা।

পাওনা টাকার জন্য বিসিবির দুয়ারে ক্রিকেটারদের ধরনা দেওয়া এটাই প্রথম নয়। ২০১৬ সালে নানা সময়ে ভিক্টোরিয়া, ক্রিকেট কোচিং স্কুল (সিসিএস), কলাবাগান ক্রিকেট একাডেমি, ব্রাদার্স, শেখ জামাল ধানমন্ডির খেলোয়াড়ের প্রাপ্য পারিশ্রমিক পাওয়ার আশায় বিসিবিতে নালিশ করেছেন। পরে বিসিবিকেই এ সমস্যার সমাধান করতে হয়েছে। যে ‘প্লেয়ার ড্রাফট’ পদ্ধতির কারণে এই সমস্যার উৎপত্তি, তবুও সেটিতেই বিসিবির কেন জানি আগ্রহ।


« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
সম্পাদক ও প্রকাশক: নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, বাড়ি ৭/১, রোড ১, পল্লবী, মিরপুর ১২, ঢাকা- ১২১৬
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: newsnotunsomoy@gmail.com
Developed & Maintainance by i2soft