এডভোকেট ইমরুল কায়েস
Published : Saturday, 12 May, 2018 at 8:28 PM, Count : 70
পল্লবীর গুরত্বপূর্ন খেলার মাঠ রক্ষায় এগিয়ে অাসুন

পল্লবীর গুরত্বপূর্ন খেলার মাঠ রক্ষায় এগিয়ে অাসুন

ছবির মাঠটি পল্লবী থানার সামনে সাবেক 'লাল মাঠ ' বর্তমান এইচ এম ঈদগাহ মাঠ ও পার্ক। মাঠটি পুরো পল্লবীবাসীর। এই মাঠটি ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রধান এবং পল্লবী থানা এলাকার মধ্য একমাত্র বহুমুখী গণমাঠ।  লক্ষ্য করে দেখুন, একটি সামান্য মাঠে একই সময়ে শত শত শিশু গা ঘেষাঘেষি করে খেলছে যা বিশ্বের কোন পরাধীনদেশেও এমন চিত্র নেই।

মাঠ লুটের শহর ঢাকায় মাঠ হারা শিশুর শৈশব কাঁদছে ঘরে ঘরে বন্দী হয়ে, একটু ফাঁকা জায়গা পেলে শত শত শিশু সেখানে হুমড়ি খেয়ে পড়ছে। এই মাঠে প্রতিদিন খুব ভোর হতে রাত পর্যন্ত পায় দুই/তিন হাজার শিশু ধারাবাহিকভাবে খেলাধূলা করে যা বিশ্বের কোন দেশের কোন মাঠে হয় বরে মনে হয়না। তারপরও সেই মাঠটি কেড়ে নিতে মাঠ লুটের সদর দপ্তর হাউজিং ' মাননীয়,প্রধানমন্ত্রী ও সম্মানিত হাইকোর্টের অাদেশকে কিক মেরে ওয়াসাকে সাথে নিয়ে কুচক্রীর দোসর হয়ে পাম্প অাগ্রাসন শুরু করেছে।

ভীতিগ্রস্ত জনপদ ভয়ে মুখ খোলার সাহস পাচ্ছেনা। এদেশের প্রাচীন ইতিহাস হতেই জানা যায় এই অঞ্চলের মানুষ কিছুটা বেক্কল ও ভীতু এবং পরনির্ভরশীল, বিধায় কোন বিষয়ে সেই "বিড়ালের গলায় ইদুরের ঘন্টা পরানো' গল্পের মত কেউ একজন সাহস করে ঘন্টা না বাধলে বা পরালে বাকীরা মৃতের মত পড়ে থাকে নিথর নির্বাক হয়ে। এই কারনে লর্ড ক্লাইভের ৫০০/৬০০ সৈন্য দশ/বারো হাজার বাঙ্গালীর উপস্থিতি সত্বেও নবাব সিরাজউদদৌলাকে পরাজিত করে স্বাধীন বাঙ্গালীর দাসযুগের সূচনা করে। সেদিন ঐ বেকুব ভীতু জনতার মাঝে কেউ ঘন্টা বাজাতে পারলে মীরজাফর ও ক্লাইভ বাহিনীর সমাধি রচিত হতো।

পরবর্তীতে সেই হারানো স্বাধীনতা ফিরে পেতে তীতুমির বাঁশের কেল্লা দিয়ে বিদ্রোহ করে স্বাধীনতা সংগ্রামের ঘন্টা বাজানো শুরু করে।  পাকিস্তানীদের বিরুদ্ধে বঙ্গবন্ধু বিদায় ঘন্টা বাজিয়ে দেয়। তাই ঘন্টা বেধে দেওয়া বা বাজানো ছাড়া এখানে কোন অধিকার এখনো বাঁচার ও রচিত হবার পথ পায়না। রাজনীতিকরা নিজেদের স্বার্থে ঘন্টা বাধে এবং বাজায় বলে ১৮ কোটি মানুষ রাজনৈতিক দলের দাসে পরিণত হয়েছে বিভক্ত হয়ে, তাই জনতা তাদের স্বাধীনতার সব পাওনা, জীবন,  শ্রম, সম্পদ, অধিকার, সমাজ, সন্তান, ভবিষ্যৎ, সবই নিঃশর্তে তুলে দিয়েছে নেতা কর্তাদের হাতে, এমনকি পাতি বখাটে নেতাদেরও দু'হাত ভরে দিয়েছে।

জনতা কখনো ভাবতেই শেখেনি জনঅধিকার রক্ষায় রাজনৈতিক অধিকাংশ নেতা কর্তা জনতার পাশে এসে কখনো দাঁড়ায়নি। জনতার এই অাহম্মকির কারণে জনতার অভিবাবক রাষ্ট্রের মাঝে সৃষ্টি হয়েছে অসংখ্য "মীর জাফর' গং অার নেতাদের মাঝে তৈরী হয়েছে অসংখ্য লর্ড ক্লাইভ অার জনতার মাঝে অামাদের মত কিছু মীর মদন বা মোহন লাল।

অার জনগন অধিকাংশ ক্ষেত্রে দাসত্বের শিকার। অার এই কারণে জনতার ৩০ বছরের সংগ্রাম ও প্রধানমন্ত্রী এবং হাইকোর্টের অাদেশ দ্বারা সংরক্ষিত এত বহুমুখী গণমুখী বিরল মাঠ সেই পুরনো চক্র অাবারো গ্রাস শুরু করেছে। অার অর্থ সংকটে অাবর্তিত অামাকেই ধারদেনা করে সম্পদশালী ও ক্ষমতাশালী লর্ডক্লাইভ ও মীরজাফর গংদের বিরুদ্ধে তীতুমীর হয়ে পল্লবীর হাজার হাজার শিশু, শিক্ষার্থীর শৈশব ও জনতার অধিকার বাঁচানোর জন্য ঘন্টা বাজাতে হচ্ছে ঝুঁকি নিয়ে। জনতাও জাগতে শুরু করেছে। এই যে লিখলাম -- এটা সেই ঘন্টার অংশ।

হে পল্লবীবাসী অামি হাউজিং ও ওয়াসায় গলায় ঘন্টা বেধে দিয়েছি এবং তা বাজছে অাপনাদের একমাত্র ঈদগাহ, সন্তান ও পরিবেশ উপর।  তাই জলদি ছুটে অাসুন সেই মহা গুরত্বপূর্ন পার্ক ও মাঠ রক্ষায়।

লেখক: সমাজ বিশ্লেষক


« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
সম্পাদক ও প্রকাশক: নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, বাড়ি ৭/১, রোড ১, পল্লবী, মিরপুর ১২, ঢাকা- ১২১৬
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: newsnotunsomoy@gmail.com
Developed & Maintainance by i2soft