নতুন সময় ডেস্ক
Published : Wednesday, 28 March, 2018 at 1:39 AM, Update: 28.03.2018 1:40:06 AM, Count : 97
বিশ্বের সাড়ে ১২ কোটি মানুষ চরম ক্ষুধার্ত: এফএও

বিশ্বের সাড়ে ১২ কোটি মানুষ চরম ক্ষুধার্ত: এফএও

জলবায়ু সংকটের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে গোটা দুনিয়ায় বাড়ছে ক্ষুধার্ত মানুষের সংখ্যা। গত কয়েক বছরে বিশ্বজুড়ে দরিদ্র ও ক্ষুধার্ত মানুষ বেড়েছে কয়েক গুণ। আর এইসব ক্ষুধার্ত মানুষেরাই দুবেলা দুমুঠো ভাতের সন্ধানে নানা অপরাধজনিত কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়াচ্ছে প্রতিনিয়ত। উন্নয়নশীল দেশে সংখ্যাটা উদ্বেগজনক হলেও আফ্রিকায় ক্ষুধার্ত মানুষের হার সবচেয়ে বেশি।

সম্প্রতি জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও)’র এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ২০১৭ সাল নাগাদ পৃথিবীতে চরম ক্ষুধার্ত মানুষের সংখ্যা বেড়ে ১২ কোটি ৪০ লাখে দাঁড়িয়েছে। যেখানে ২০১৫ সালে এ সংখ্যা ছিল ৮ কোটি ও ২০১৬ সালে ছিল ১০ কোটি ৮০ লাখ।

সুইজারল্যান্ডে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘের এক সম্মেলনে এমন তথ্য তুলে ধরে বলা হয়, বর্তমান বিশ্বে সাধারণ ক্ষুধার্ত মানুষের সংখ্যা ৮১ কোটি ৫০ লাখ। যা ২০১৫ সালে ছিল ৭৭ কোটি ৮০ লাখ ও ২০১৬ সালে তা বেড়ে ৮১ কোটি ৫০ লাখ হয়। ক্ষুধার্ত ও চরম ক্ষুধার্ত মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধির মূল কারণ হিসেবে বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়া অস্থিতিশীলতা ও সহিংসতাকে চিহ্নিত করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

ওই সম্মেলনে যোগ দেয়া জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির নির্বাহী পরিচালক ডেভিড বিয়াসলি তার ভাষণে বলেন, ‘গত দুই বছরে সারাবিশ্বে ক্ষুধার্ত মানুষের সংখ্যা বাড়ার কারণ ‘মানুষ একে-অপরকে গুলি চালিয়ে যাচ্ছে। বর্তমানে ৮১ কোটি ৫০ লাখ ক্ষুধার্ত মানুষের ৬০ ভাগই সংঘাতপূর্ণ এলাকাগুলোতে বাস করে। ২০৩০ সালে মধ্যে বিশ্ব থেকে ক্ষুধা নির্মূল করা সম্ভব ছিল। তবে যুদ্ধংদেহী বিশ্ব পরিস্থিতির কারণে সেটি কঠিন হয়ে পড়ছে।’

তুলনামূলক গত কয়েক বছরে বিশ্বজুড়ে ভয়াবহ কোনও দুর্ভিক্ষ হয়নি উল্লেখ করে সম্মেলনে জাতিসংঘের ত্রাণ বিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল মার্ক লোওকুক বলেন, ‘দুর্ভিক্ষের ভয়াবহতাও আগের চেয়ে কমে এসেছে। দীর্ঘদিন ধরে তীব্র সংঘাত চলে আসছে- বিশ্বের এমন কিছু দেশে এখনও দুর্ভিক্ষ ও ক্ষুধার ঝুঁকি রয়েছে।’

বর্তমান বিশ্বে অপুষ্টির শিকার প্রায় ৪৯ কোটি মানুষ ও বিশ্বের ১৫ কোটি ৫০ লাখ অপুষ্ট শিশুই সংঘাতপূর্ণ এলাকায় জন্ম নিচ্ছে বলেও বক্তব্যে উল্লেখ করেন লোওকুক।

এফএও’র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পূর্ব এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও ল্যাটিন অ্যামেরিকার কিছু এলাকায় মানুষ ক্ষুধার সাথে লড়তে সক্ষম হওয়ায় সেসব অঞ্চলে ক্ষুধাপীড়িত মানুষের সংখ্যা কমেছে। তবে পশ্চিম আফ্রিকায় কোনও উন্নতি হয়নি এবং আফ্রিকার উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলে এ অবস্থার উন্নতি প্রায় থমকে আছে। 


« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
সম্পাদক ও প্রকাশক: নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, বাড়ি ৭/১, রোড ১, পল্লবী, মিরপুর ১২, ঢাকা- ১২১৬
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: newsnotunsomoy@gmail.com
Developed & Maintainance by i2soft