গ্যাস সঙ্কটে যমুনা সার কারখানায় উৎপাদন বন্ধ
জাকারিয়া জাহাঙ্গীর, সরিষাবাড়ী
Published : Monday, 12 March, 2018 at 6:29 PM, Update: 12.03.2018 6:40:20 PM, Count : 175
উত্তরাঞ্চলের ২০ জেলায় সার সঙ্কটের আশঙ্কা

উত্তরাঞ্চলের ২০ জেলায় সার সঙ্কটের আশঙ্কা

জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার তারাকান্দিতে অবস্থিত দেশের বৃহৎ ও একমাত্র দানাদার ইউরিয়া উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠাণ যমুনা সার কারখানা (জেএফসিএল) বন্ধ থাকায় চলতি বোরো মওসুমে উত্তরাঞ্চলের ২০ জেলায় সার সঙ্কটের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। সেচ মওসুমে শিল্প ও বিদ্যুৎ খাতে গ্যাস সঙ্কটের অযুহাতে গত শুক্রবার (৯ মার্চ) থেকে কারখানা বন্ধ ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ। এদিকে কারখানা বন্ধ থাকায় সহস্রধিক শ্রমিক-কর্মচারী বেকার হয়ে পড়েছে বলে জানা গেছে।


জেএফসিএল সূত্র জানায়, ১৯৯১ সালে যমুনা সার কারখানা প্রতিষ্ঠার শুরু থেকেই তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন এন্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি গ্যাস সরবরাহ করে আসছে। দৈনিক ১৭০০ মে. টন ইউরিয়া উৎপাদনে সক্ষম এ কারখানায় প্রতিদিন ৩৭০ পিএসআই চাপে গ্যাসের প্রয়োজন পড়ে। তিতাস কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় গ্যাস সরবরাহ না দিয়ে সর্বোচ্চ ১২০-২০০ পিএসআই চাপে গ্যাস দিলে কারখানার উৎপাদন ও নির্ধারিত অঞ্চলে ইউরিয়া সরবরাহের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন ব্যাহত হয়।


এরইমধ্যে গত বৃহষ্পতিবার (৮ মার্চ) তিতাসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইঞ্জি. মীর মশিউর রহমান যমুনা সার কারখানায় গ্যাস সরবরাহ বন্ধের চিঠি দেয়। শিল্পখাতে গ্যাস সঙ্কট ও চলতি সেচ মওসুমে বিদ্যুৎ উৎপাদন সচল রাখতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে ওই চিঠিতে উল্লেখ করা হয়। পরদিন রাত ১১.০৫টা থেকে কর্তৃপক্ষ যমুনা সার কারখানার এনজি কম্প্রেসর ও সব ইউনিটসহ ইউরিয়া উৎপাদন সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেয়। কারখানা আকস্মিক বন্ধ হয়ে পড়ায় বড় ধরণের দুর্ঘটনাসহ গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ ক্ষয়ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে বলে ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহবুবা সুলতানা গত ১০ মার্চ একটি চিঠিতে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে (বিসিআইসি) জানিয়েছেন।

উত্তরাঞ্চলের ২০ জেলায় সার সঙ্কটের আশঙ্কা

উত্তরাঞ্চলের ২০ জেলায় সার সঙ্কটের আশঙ্কা



এদিকে উৎপাদন বন্ধ থাকায় যমুনা সার কারখানার নির্ধারিত এলাকা বৃহত্তর ময়মনসিংহসহ উত্তরাঞ্চলের ২০ জেলায় সার সঙ্কটের আশঙ্কা রয়েছে। জানা গেছে, চলতি ২০১৭-২০১৮ অর্থবছরের জুন পর্যন্ত বাংলাদেশ রসায়ন শিল্প সংস্থা (বিসিআইসি) যমুনা সার কারখানাকে তিন লাখ ৮০ হাজার মে. টন ইউরিয়া উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে দেয়। কারখানা বন্ধ হওয়ার আগ পর্যন্ত উৎপাদন হয় মাত্র দুই লাখ আট মে. টন। চাহিদা মেটাতে সার আমদানী করছে সরকার। এ ব্যাপারে ব্যবসায়ী আবুল হোসেন সরকার বলেন, ‘যমুনা সার কারখানার সার বিশ্বমানের। কিন্তু কারখানাটি বন্ধ রেখে উচ্চমূল্যে বিদেশ থেকে নিম্নমানের সার আমদানী করা হচ্ছে।’


বিষয়টি স্বীকার করে যমুনা সার কারখানার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মাহবুবা সুলতানা বলেন, ‘সারের চাহিদা মেটাতে সরকারকে বিদেশ থেকে সার আমদানী করতে হচ্ছে। এখন পর্যন্ত ৬-৭ লাখ মে. টন আমদানী সার মজুদ রয়েছে।’ তবে কবে কারখানায় উৎপাদন চালু হবে তা বলতে পারেননি তিনি।


এদিকে কারখানা বন্ধ থাকায় প্রায় সহস্রাধিক শ্রমিক-কর্মচারী বেকার হয়ে পড়েছে বলে জানা গেছে। শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের (সিবিএ) সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান আলী জানান, ‘তিন শতাধিক দৈনিক হাজিরা ভিত্তিক শ্রমিকসহ সহস্রাধিক লোক সরাসরি কারখানার আয়ের সাথে সম্পৃক্ত। কাজ না থাকায় এরা মানবেতর দিন কাটাচ্ছে।’ কারখানাটি দ্রুত চালু করতে স্থানীয়রা সরকারকে অনুরোধ জানান।



« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
সম্পাদক ও প্রকাশক: নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, বাড়ি ৭/১, রোড ১, পল্লবী, মিরপুর ১২, ঢাকা- ১২১৬
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: newsnotunsomoy@gmail.com
Developed & Maintainance by i2soft