নতুন সময় প্রতিবেদক
Published : Wednesday, 10 January, 2018 at 11:35 PM, Update: 11.01.2018 2:47:30 PM, Count : 225
সিটি নির্বাচন হবেনা: আশঙ্কা তাবিথের

সিটি নির্বাচন হবেনা: আশঙ্কা তাবিথের

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে (ডিএনসিসি) মেয়র পদে উপ-নির্বাচনের জন্য তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তকে এখনো নির্বাচন নিয়ে ‘শঙ্কা’ প্রকাশ করেছেন বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী তাবিথ আউয়াল, যিনি গত নির্বাচনে মাঝপথে সরে দাঁড়ান। যদিও সেটা ছিল দলীয় সিদ্ধান্ত। এবার উপ-নির্বাচনে বিএনপির পছন্দের তালিকায় শীর্ষে আছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টুর ছেলে তাবিথ আউয়ালই।

নির্বাচনে অংশ নেয়ার বিষয়টি চূড়ান্ত হলেও দলীয়ভাবে ডিএনসিসিতে প্রার্থী ঘোষণা করেনি বিএনপি।

ডিএনসিসি নির্বাচনের জন্য মঙ্গলবার তফসিল ঘোষণা করা হয়। আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারি ভোট অনুষ্ঠিত হবে।

তিনি বলেন, ‘এটা উপ-নির্বাচন। মূল নির্বাচনের একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। তবে নির্বাচন নির্বাচনের মতই করতে হবে। এই মুহূর্তে আমি অপেক্ষায় আছি, দল চূড়ান্তভাবে কাকে মনোনয়ন দেয় তার জন্য। তবুও অবিশ্বাস-আস্থাহীনতার জায়গায় যা বিরাজ করছে তা হচ্ছে নির্বাচনটা আদৌ হবে কি না?’

‘আর কেন নির্বাচনটা হবে না তা সকলেরই জানা। নতুন ১৮টি করে ওয়ার্ড ঢাকা দুই সিটি করপোরশেনের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। সীমানা জটিলতা নিয়ে আদালতে দুইটি রিট ফাইল হয়েছে। ওই রিটের কোনো সুরাহা এখনো হয়নি। নির্বাচন কমিশন যদি সুস্পষ্ট করে বলে দিত আইনি বাধা মোকাবিলা করে নির্বাচন হবে। তাহলে জোর দিয়ে বলা যায় নির্বাচনটা করা যাবে’ নিজের আশঙ্কার ব্যাখ্যাটা এভাবেই দেন তাবিথ।

বিএনপির নির্বাহী কমিটির এই সদস্য আরও বলেন, ‘আমরা নির্বাচনের কাজ ও তৎতপরতা দেখে যখন স্বস্তি পাবো যে নির্বাচনটা ২৬ ফেব্রুয়ারি হবে, তখনই আমাদের প্রচারণাটা শুরু করতে পারব।’

ক্ষমতাসীন দলের সম্ভাব্য প্রার্থীর গণসংযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশের কালচার হয়ে গেছে, ক্ষমতাসীন দলের ব্যক্তিরা ক্ষমতার অপব্যবহার করবে।’

‘আমরা অপেক্ষা করছিলাম তফসিল ঘোষণার জন্য। এখন দলের মনোয়য়ন বোর্ড দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সবাইকে বিবেচনা করে যে সিদ্ধান্ত নিবেন তার অপেক্ষাই আছি। আমি আশাবাদী উনারা (মনোনয়ন বোর্ড) আমাকেই দলীয় মনোয়ন দিবেন’ বলেন তাবিথ আউয়াল।

তিনি বলেন, ‘তার মানে এই নয় আইন অমান্য করে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করে কোনো কাজ করব। দলীয় সিদ্ধান্ত পাওয়ার পরই আমি মাঠে নামব, তার আগে নয়।’

গত নির্বাচনে মাঝপথে সরে দাঁড়ানো প্রসঙ্গে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘গত নির্বাচনের ফলাফল দিয়ে নির্বাচনটাকে মূল্যায়ন করা যাবে না। এটা গণমাধ্যমের কল্যাণে সবাই দেখছেন। সেটা কোনো গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হয়নি বা নির্বাচনের কোনো পরিবেশ ছিল না। এই কারণেই আমরা নির্বাচন থেকে সরে এসেছিলাম।’

‘এছাড়া আমরা কিন্তু একা নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করিনি, অন্য প্রার্থীদের মধ্যে থেকেও বেশ কয়েকজন নির্বাচন প্রত্যাখান করেছিলেন। কিছু ক্ষেত্রে বর্জনও করেছেন কেউ কেউ’ যোগ করেন তিনি।

তাবিথ আউয়াল বলেন, ‘ওই নির্বাচনের কার্যক্রম এখনো শেষ হয়ে যায়নি। অনেক অভিযোগ রয়ে গেছে। আমরা যে অভিযোগগুলো নির্বাচন কমিশনকে দিয়েছিলাম তার উত্তর আজও পেলাম না। কোনো তদন্তও দেখলাম না।’

তিনি বলেন, ‘আশা করি, বর্তমান নির্বাচন কমিশন অতীতের আচরণ থেকে বের হয়ে আসবে। উনাদের মন-মানসিকতা থাকবে সুষ্ঠু নির্বাচনের দিকে এগিয়ে যাওয়া। নির্বাচন কমিশনের উদ্দেশ্য যদি ঠিক থাকে, তাহলে নির্বাচনে ভালো একটা ফলাফল আমরা পাব।’

প্রয়াত মেয়র আনিসুল হকের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে আধা বেলায় তিন লাখ ২৫ হাজার ৮০ ভোট পান তিনি। এক লাখ ৩৫ হাজার ৩৭ ভোট কম পেয়ে দ্বিতীয় হয়েছিলেন তাবিথ। এবারও দলীয় সমর্থনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চান মিন্টুপুত্র।

গত ১০ ডিসেম্বর রোববার রাতে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সভাপতিত্বে দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকে ঢাকা সিটি উত্তর নির্বাচনের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। তাতে তাবিথ আউয়ালের নাম উঠে আসে। তবে এটা নিয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।


« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত