এ্যাডভোকেট ইমরুল কায়েস
Published : Saturday, 6 January, 2018 at 4:35 PM, Count : 122
এই জাতির ভয়াবহ কলংকিত ও অপমানিত এক অধ্যয়ের কথা বলছি

এই জাতির ভয়াবহ কলংকিত ও অপমানিত এক অধ্যয়ের কথা বলছি

এ জাতির ভয়াবহ কলংকিত ও অপমানিত অধ্যয় এর শেষ নেই। তাই দুঃখ কষ্ট বিড়ম্বনা লোকসান হতাশা রোগ ব্যধী দুঃশ্চিন্তা দূষিত নেতা কর্তা খাদ্য শিক্ষা ইত্যাদিরও সীমা পরিসীমা নেই। এসব এখন সবার সয়ে গেছে। এ কারণে তা কেউ বলেনা এবং অামি বলা ছেড়ে দিয়েছি। রাজনীতি দূষন সকল সীমা অতিক্রম করে গেছে বহু অাগেই, কর্তা দূষনেরও একই দশা। বিদ্যান মানুষের চরিত্র দূষন এতটা ভয়াবহ যে শিক্ষার দ্বারা দূষণ দূর করার দ্বাররুদ্ধ। মোটা লাঠির বাড়ি বা রক্তক্ষরণ বা ভয়ানক ভয় এর নীচে রাখা ছাড়া দূষন দূরের উপায় হয়েছে। তারপর কিছু দূষন অপমান, কলংক, অসহ্য হয়ে ওঠে, তাই তা বলে ফেলি।

১৪ বছর পূর্ব হতে দেখলাম কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় পড়ু সুদর্শন স্মার্ট ছেলেরা বিভিন্ন প্রকাশনার নির্দিষ্ট কিছু বই নিয়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্নধারের নিকট যাচ্ছে। একটি বই বিক্রির জন্য সেসব সোনার ছেলেরা তাদের মেধার ও সৌজন্যবোধের সবটুকু একেবারে উপুড় করে ঢেলে দিচ্ছে। তারপরও বেশীরভাগ ক্ষেত্রে ব্যর্থ হয় বই বিক্রি করতে। এরপর দেখলাম বিভিন্ন চাইনিজ রেষ্টুরেন্টের খাবারের কুপন বিক্রি করার জন্য সোনার ছেলেরা দ্বারে দ্বারে ঘুরে বেড়াচ্ছে। অামার চোখে এরা যখনই পড়েছে তখন তাদের বুঝিয়েছি, তাদের এই পেশা তাদের জন্য অপমানজনক। কারণ লড়াই করার ষাড় দিয়ে কখনো হাল চাষ করা যায়না। যে ষাড় পাল দেয়ার জন্য পালা হয় তাকে দিয়ে হালচাষ করা যায়না। রেসের বা যুদ্ধের ঘোড়া দিয়ে গাড়ী টানা বা মালামাল বহন করা যায়না । 
তাই কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের সোনালী ছাত্ররা কখনো সামান্য কয়টা টাকার জন্য পূজিবাদীদের টাকার প্রসার ঘটাতে মানুষের দ্বারে দ্বারে হালচাষ করা বলদের মত ঘুরতে পারেনা। কারণ বেশীর ভাগ ব্যক্তি তাদের অফারকে প্রত্যাখ্যান করে, জীবনের শুরুতেই যদি তারা প্রত্যাখ্যাত হতে থাকে তবো তাতে তাদের মনোবল ভেঙ্গে যাবে, শিক্ষার অপমান হবে। ফু দিলে অাগুন নিভে যায় অাবার ফু দিলে অাগুন বেড়ে যায়, এটা নির্ভর করে অাগুনের তীব্রতার উপর। তেমনি স্মার্ট শিক্ষার্থীর যখন চেতনা গঠনের সময় তখন সে কয়টি টাকার জন্য মানুষের দ্বারে দ্বারে ভিক্ষুকের মত ঘুরে সামান্য পণ্য বিক্রির প্রচেষ্টা চালায় অার বাজেভাবে প্রত্যাখ্যাত হয় তাতে তার চেতনার মৃত্যু হয়ে যায়। শিক্ষা চেতনার অাদর্শ হচ্ছে, অন্যের লাভে মজুরীর বিনিময়ে 'টাকার জন্য দ্বারে দ্বারে কথার ফেরী করা যাবেনা। দ্বীতিয় অাদর্শ হচ্ছে, প্রস্তাব প্রত্যাখ্যাত হবে এমন প্রস্তাব সামান্য টাকার জন্য দেয়া যাবেনা। জীবন্ত কুকুরকে সবাই লাথি মারে অার মৃত সিংহের কাছে যেতে মানুষ ভয় পায় এবং তাকিয়ে দেখে। শিক্ষা ' মানুষকে সিংহে পরিণত করে। শিক্ষা কাধে নিয়ে যারা কুকুরের মত অাচরণ করে তাদের শিক্ষা বুক হতে নেমে পেটে অাশ্রয় নেয় তাই তারা শিক্ষার তাপ অালো ও শিক্ষাসুখ হতে বঞ্চিত থাকে। অামি তাদের অনেককে বুঝালে তারা বুঝতে পারে এবং অার করবেনা বলে অঙ্গীকার করে। দুদিন অাগে ধানমন্ডি ষ্টার কাবাব হোটেলের সামনে দুটি ছেলের যে ঘটনা দেখলাম তাতে চরম ব্যথিত হয়ে জাতি ভাবনায় লজ্জিত হলাম, অার সে কারণে এই বিষয় নিয়ে লিখতে বাধ্য হলাম। এক কাজের জন্য ষ্টার কাবাব হোটে্লের সামনে দাড়িয়ে ছিলাম। এমন সময় দেখলাম ২০/২১ বছরের দুজন সুদর্শন স্মার্ট ছেলে এক ইয়ং দম্পতির হাত নিয়ে কিছু একটা একে দিলো। এরপর যখন টাকা চাইলো তখন দম্পত্তির পুরুষটি মানিব্যাগ বের করে দেখায় তার কাছে টাকা নেই এবং সে কার্ড দিয়ে কেনাকাটা করে। ছেলে দুটি নীরবে চলে যায়। 
কার্ডধারী ঐ ব্যক্তিকে অামার কাছে জানোয়ার মনে হলো । ছেলে দুটি অনর্গল ইংরেজী ভাষায় কথা বলতে পারে। এরপর তারা অারো অনেককে হাতে একে দিতে চাইলো কিন্তুু সবাই ফিরিয়ে দিলো এবং অনেকে বাজেভাবে ফিরিয়ে দিলো। এসব ব্যক্তি হোটেলে দামী খাবার খেতে এসেছে, এক টাকার খাবার তারা ২০ টাকা দিয়ে খাবে, অার তারাই জাতির এত সুন্দর দুটি স্মার্ট শিক্ষার্থীর কয়েক টাকার অাহ্বানকে বুঝার চেষ্টাই করলোনা । অামার কাছে টাকা থাকলে তাদের কাবাব খাইয়ে বলতাম যে দেশে সাধারণ মানুষের সৌভাগ্যে পাড়া দিয়ে টাকা অর্জনের প্রথা হয়, যে দেশে মূর্খ অার অযোগ্যরা সমাজ ও অর্থনীতি শাসন ও শোষণ করে তাদের কাছে সৌজন্য বা শিল্প বা কোনও বোধ এর উপর ভর দিয়ে কিছু চেয়োনা কারন সেসব উপলব্ধি করার বোধ তাদের নেই। অামার টাকা ছিলোনা তাই তাদের খাওয়ানো বা বলা হলোনা। ছেলে দুটি খালি হাতে ফিরে গেলে। ফকিররা ভিক্ষা পায় কিন্তু রাজা যদি ভিক্ষুকে পরিণত হয় তাহলে রাজাকে কেউ ভিক্ষা দেয়না। 
এই বিষয়ে অচিরেই বই লিখবো।
লেখক: বিশিষ্ট সমাজ বিশ্লেষক।


« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
সম্পাদক ও প্রকাশক: নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, বাড়ি ৭/১, রোড ১, পল্লবী, মিরপুর ১২, ঢাকা- ১২১৬
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: newsnotunsomoy@gmail.com
Developed & Maintainance by i2soft