এডভোকেট ইমরুল কায়েস
Published : Saturday, 23 December, 2017 at 11:02 AM, Count : 434
বালের কামলায় বালের সমালোচনা...

বালের কামলায় বালের সমালোচনা...

সম্প্রতি এয়ারপোর্টে প্রবাস ফেরত একজন শ্রমিককে পোর্টে কর্তব্যরত দুজন পুলিশ যার একজন অাবার অানসার বাদানুবাদের এক পর্যায়ে '' বালের কামলা ' বলায় মাত্রাতিরোক্ত যে সমালোচনা শুরু হয়েছে তা অাসলে বালের সমালোচনায় পরিণত হয়েছে। এটা সমালোচনার বা প্রতিবাদের নামে পুলিশ বিভাগের বিরুদ্ধে কথা বলার অপপ্রচার করার পুরনো কৌশল প্রয়োগ। একজন ব্যক্তি কোন অপরাধ করলে তার যোগ্যতা অযোগ্যতাটাও দেখতে হয়। একজন অানসার এর যোগ্যতা কতটুকু তা সবাই জানে। গায়ে রাষ্ট্রীয় পোষাক চড়লে কনষ্টেবল অার অাই জি এক সমান হয়ে যায়না। পৃথিবীর সব দেশেই নীচু শ্রেণীর মুখে একটু বাজে ধরনের ভাষা প্রয়োগ বিষয়টি প্রথাগত পর্যায়ে। এদেশে যারা মিল শ্রমিকদের পার্টিগত শ্লোগান শুনেছে তারা বলতে পারবে সেটা কতবড় জঘন্য শ্লোগান। অাচরণগত সমস্যা এদেশে প্রতিটি স্থানে প্রবল। যে সমাজে শিক্ষকরা সন্ত্রাসী অার পাতি নেতাদের 'সালাম' দিয়ে বিনয় প্রকাশ করে, সতী নারীরা চরিত্রহীনকে ভোট দেয়, নিরুপায় হয়ে ভেজাল খাবার জেনেশুনে খেয়ে স্লোমোশন অাত্নহত্যা করে, সমাজ উন্নয়নের সামাজিক কাজ বিদেশীদের হাতে দিয়ে চোখবুজে ঘরে থাকে , নিজের চোখে পট্টি বেধে পেপার পত্রিকার চোখ দিয়ে জনপদ জনজীবন দেখে অার তর্ক করে সেখানে এধরনের বাজে কথা নীচু শ্রেণীর অফিসারের মুখ ফসকে বের হতেই পারে এবং তার জন্য স্বাভাবিক একটি পদক্ষেপই যথেষ্ট। ঐ দুজন পুরো পুলিশ ডিপার্টমেন্ট নয়। অানসারত নিজেই একজন প্রশাসনিক কামলার মত। সমশ্রেণীতে বিরোধে বাজে কথা শ্রেণী অনুযায়ী বের হতেই পারে। অামার ব্যক্তি জীবনে এমন ঘটনা ঘটে থাকে। যেমন ফজলুল হক ও অা: তালেব নামে দুজন সার্জেন্ট এর খুব বাজে অাচরণের শিকার হয়েছি এবং তাদের বিরুদ্ধে ২১/২২ সালে অামি অভিযোগ করবো। এই দুজন সার্জেন্টের জন্য পুরো সার্জেন্ট বিভাগকে ইঙ্গিত করে যা তা বলা যায়না। শত শত স্মার্ট ও ভালো সার্জেন্ট দেখছি যারা এ শহরে ভূমিকা রাখছে। পুলিশের সামান্য উর্ধতনদের কাছে এসব বিষয় জানালে সাথে সাথে সুবিচার হতো। সেটা না করে ঢাক ঢোল পিটিয়ে ফেসবুকে ইউটিউবে পত্রিকায় একটি গালিকে নিয়ে যে কথ্য বাদ্য বাজানো হচ্ছে তাতে কান বয়রা হবার যোগাড়। যে শহরে প্রতি মোড়ে সমাজ শত্রুরা সমাজ সেবার সাইনবোর্ডের নীচে বসে জনতার পাছায় জনতার স্বার্থে লাথি মারছে সে কথাত কেউ জোর গলায় প্রকাশ করেনা। অতিভক্তি যেমন চোরের লক্ষন তেমনি সামান্য বিষয়ে অতি প্রচারকারী 'এজেন্ট'এর লক্ষণ। এই বিষয়ে অতি প্রচারকারীরা জেনে রাখুন, গার্মেন্টস জগতে ব্যাপকহারে লাইন ম্যান ও সুপারভাইজাররা মেশিনে কর্মরত মেয়েদেরকে সামান্য সামান্য কারণে কথায় কথায় খানকি, মাগী ইত্যাদি কথা বলে কাজে হাকায়। অসংখ্য গার্মেন্টস নারীরকে এলাকার একশ্রেণীর ফিটিংবাজরা ব্লাকমেইল করে টাকা হাতায়। কৈ এই কথাগুলো অাজ পর্যন্ত কেউ একবারও বললোনা।
স্বাধীন দেশে রাজধানীর সুযোগ্য বিদ্যানরা ঘরে লুকিয়ে থাকে অার সমাজ হাকায় শত শত অযোগ্য লোকে ---- এর চেয়ে বড় অপমান অার কি হতে পারে যেখানে বিচারকের সমাজপতি একজন দস্যু মার্কা মানুষ। রাজধানীর সমাজ ব্যবস্থা একটি অপমানজনক অবস্থা।
এসব কথা অামিই বলতে পারি কারণ অামি কিশোরকালেই সাধারণ মানুষের পক্ষে লড়াই শুরু করেছি। উক্ত পুলিশ অানসার কথাটা বলে খুবই ভুল করেছে কিন্তু সেই একটা স্বাভাবিক ভুলের এতবড় মাশুল হতে পারেনা। দেশের একমাত্র জাতীয় পোর্টের বদনাম হবার উপক্রম। পুলিশের একটি গালির কথা বাদ দিয়ে ঐ কথাটা বলুন পোর্টের পার্কিং লীজ কারা নেয় অার গাড়ী ভাড়া বেশী কেন, ঐ কথা বলেন ব্যাগ কাটে কারা, ঐ কথা বলেন মলম পার্টি কিভাবে সেখানে টার্গেট করে, ঐ কথা বলেন নিরাপদে ঢোকা ও ঘরে ফেরার উপায় কি? যে কথা বললে জীবন বাচবে সেসব নিয়ে অতি প্রচার করুন। যেখানে জীবন যায় যায় অবস্থা সেখানে সম্মান এর জন্য অাদাজল খেয়ে লাগার বিষয়টি বিভ্রান্তিমূলক। রংপুর দিনাজপুরের লোক ঢাকায় রিকশা চালানোকালে সবাইকে 'তুই' বলে সম্বোধন করে থাকে। এটার জন্য তাকে চড় মারা যায়না বরং তাকে শেখাতে হবে। ঐ ভুলটা যদি কোন এ.সি বা ডি.সি বা অারো ঊর্ধ্বতন কোন অফিসার করতো তাহলে তা গুরুতর অন্যায় হত, কারণ ঐ লেবেল এর অফিসার এমনটা বলার কোন যুক্তি রাখেনা। এ বিষয়ে নীচে একটা সত্য কাহিনী বলছি। অনেকে ভাবতে পারেন পুলিশের পক্ষে দালালি করছি কিনা? অামি দালাল বটে তবে কোন ব্যক্তি বা দল বা ডিপার্টমেন্টের নয় অামি জাতির দালালি করি, অামি জাতির দালাল,অার কিশোরকাল হতেই তা করছি। সেই দালালি করেই অামি দেশপ্রেম অর্জন করেছি।
সত্য কাহিনী :: মনছুর হেল্লাজ রহ: নামে জগত বিখ্যাত দরবেশকে এদেশের সাধারণ মানুষ অায়নাল হক নামে চেনে। 'অায়নাল হক' হচ্ছে একটি বাক্য । এই বাক্যটি বলার প্রকৃত বিষয়টি বুঝতে না পেরে ভুলবশত সেদেশের কাজী বা বিচারক মনছুর রহঃ কে পাথর নিক্ষেপ ও শূলে চড়িয়ে হত্যার অাদেশ দেন। অাদেশ মোতাবেক মনছুর রহঃ কে নির্দিষ্ট ফাকা জায়গায় রাখা হয় প্রথমে পাথর মারার জন্য। লোকজন চারপাশে জড়ো হয়ে মনছুর রহঃ এর প্রতি পাথর ছুড়তে শুরু করে। মনছুর রহঃ চুপচাপ নীরবে মুখবুজে পাথরের অাঘাত সহ্য করতে থাকেন। এসময় সেখানে শরীয়তের বিধান পালনের জন্য জগতবিখ্যাত অার এক অালেম দরবেশ শিবলী রহঃ উপস্থিত হয়ে সামান্য বা অতি ক্ষুদ্র একটি পাথর তুলে মনছুর রহঃ এর দিকে ছোড়া মাত্রই মনছুর রহঃ হাউমাউ করে সজোরে কাদতে শুরু করেন। এটা দেখে শিবলী রহঃ ঘাবড়ে যেয়ে মনছুর রহঃ কে বলেন, তোমাকে লোকে এত বড় বড় পাথর মারছে তুমি চুপ রইলে অার অামি সামান্য ক্ষুদ্র একটি পাথর মারতেই এতজোরে কান্না শুরু করেছো। জবাবে মনছুর রহঃ বলল, অারে ওরা-ত সাধারণ মানুষ তাই ওরা কিছু বোঝেনা কিন্তু তুমিত সব বোঝো তাই অামি এতকষ্ট পেয়েছি। শেষ। কিছু অাচরণের দায়দায়িত্ব গুরুত্ব নির্ভর করে জ্ঞানের উপর ভিত্তি করে।

লেখক: সমাজ বিশ্লেষক


« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত