খালেদ সুজন ও নিরব হোসেন
Published : Saturday, 9 February, 2019 at 2:14 PM
একজন আলোকিত সাদা মনের মানুষ কদম আলী মাদবর

একজন আলোকিত সাদা মনের মানুষ কদম আলী মাদবর

বর্তমান যুগটা বড়ই যান্ত্রিক। এ যুগে মানুষ বড়ো আত্মকেন্দ্রিক। নিজের জগত নিয়ে ব্যস্ত হওয়ায় অন্যকিছু নিয়ে ভাবার সময় কারোর নেই। মানুষ যেন ভুলে গেছে গীতার সেই অমৃত বানী “যত্র জীব তত্র শিব” অর্থাৎ স্রষ্টার সৃষ্টির মধ্যেই শিব বা সৃষ্টিকর্তা বিরাজমান । আর সৃষ্টিকর্তার সৃষ্টিকে ভালবাসলেই স্রষ্টার নৈকট্য লাভ সম্ভব। স্বার্থপর পৃথিবীতে নিজস্বার্থ ছেড়ে নিস্বার্থ হওয়া সাদা মনের মানুষ পাওয়া ভার। কিন্ত এই কঠিন ব্যস্তবতায়ও কিছু মানুষ থাকে যাঁদের জন্যই বোধকরি আমরা এগিয়ে যাবার আলো দেখতে পাই। তেমনি একজন আলোকিত মানুষ কদম আলী মাদবর

কিছু না লিখলে বা না দাগ দিলে যেমন সাদা কাগজের মূল্য থাকে না, ঠিক তেমনি ব্যক্তির জীবনে মনুষ্যত্ব কাজ বা গুন প্রকাশ না হলে প্রকৃত মানুষ তাকে বলে কি? আমরা এই কলমে এমন এক মানুষকে তুলে  ধরতে চাই যার হৃদয, কাজ, চেহারা, ব্যক্তিত্ব অতুলনীয়। হৃদয়টা হচ্ছে শিশুতুল্য সহজসরল, স্নেহ-ভালোববাসায় পূর্ণ। স্বার্থ ছাড়া অতি পরিশ্রমী, অসহায়কে সাহায্য দানই হচ্ছে তাঁর কাজ । আর যদি চেহারার কথা বলি, তাহলে বলবো হাজারো লোকের মাঝেও আমি তাঁর মিল পাইনি । সাধারন পোশাক-আশাক পড়েই তিনি একজন সুন্দর ব্যক্তিত্বের অধিকারী। বিভিন্ন জাগায় ছড়িয়ে আছেন বলেই হয়তো বা আপনারা জানেন না একটি স্বর্গ সুখের রাজ্য আছে । সবাই এখানে সুখী । আর কেনই বা সুখী তা জানানোর জন্যই এই লেখা ।  কদম আলী মাদবর শুধূ পরিবারের চোখেই নয়, আরো অনেকের চোখেই তিনি এক সাদা মনের মানুষ।
মুক্তিযুদ্ধে নিহিত  বাবার বড় পুত্র কদম আলী মাদবর  তাঁর ২ কন্যা ১ পুত্র ও স্ত্রীর তাদের খরচ মেটানোর পর আয়ের বাড়তি অংশ নিয়ে অনাথ শিশুর,দরিদ্র মানুষের পাশে এসে দাড়িয়েছেন।  কদম আলী মাদবর অনেক আগে থেকেই প্রানের ইচ্ছা ছিল সমাজের জন্য বা দেশের উপকারের জন্য কিছু করতে । যখন তাঁর এই সময়ে সেই সন্তানগুলো কিছু খাবার, ভালবাসার জন্য তাঁর সামনে কেঁদে উঠলো-তখনই তিনি মনোস্থির করলেন এদের জন্য কষ্ট হলেও কাজ করবেন । আর সেইদিন থেকেই শুরু করলেন এক নতুন জীবন ।  দিন দিন তাঁর শিশু সন্তান বেড়েই চলেছে । নিজ সন্তানদের মতো সকলকেই তিনি বুকে তুলে নিলেন । খাবার ও জিনিস পত্রের অভাব সেই শিশু সন্তানদের ছিল ঠিকই কিন্তু বাবা মার স্নেহ ভালোবাসার অভাব তখনও বুঝতে দেননি সেই রক্ত বাধঁন ছাড়া, ঠিকানাহীন, অবহেলিত শিশুদের ।

এ সমস্ত বাচ্চাদের মুখে হাসি ফুটানোর জন্যই তিনি ট্রান্কের লক বানিয়ে কাজ করেছেন। আর দিনের কর্মকান্ডের শেষে সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা জানিয়েছেন চোখের জল দিয়ে । এরপর কিভাবে চলবেন! তাঁর একটাই বিশ্বাস ছিল যে সৃৃষ্টিকর্তা সব জানেন, তিনি কাউকে নিরাশ করেন না । আর এই প্রত্যয় নিয়ে কাজ করে চলছেন তিনি । 


« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
সম্পাদক ও প্রকাশক: নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, বাড়ি ৭/১, রোড ১, পল্লবী, মিরপুর ১২, ঢাকা- ১২১৬
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: newsnotunsomoy@gmail.com
Developed & Maintainance by i2soft