শিহাব উদ্দীন ভূইঞা
Published : Wednesday, 5 December, 2018 at 3:21 AM, Update: 05.12.2018 3:36:33 AM, Count : 59
এবার কোন পদকটি চাই আপনার?

এবার কোন পদকটি চাই আপনার?

আসুন সবাই এদেরকে সস্মিলিত ভাবে না বলি
”পদক বা সস্মাননা” ! এটি ব্যক্তি, দল কিংবা প্রতিষ্ঠানকে বিশেষ ক্ষেত্রে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ পুরস্কৃত করার লক্ষ্যে স্ব স্ব কাজে সেসব ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে হস্তান্তর করা হয়।
পদকের ইংরেজি প্রতিশব্দ মেড্যাল যা বাংলা ভাষায় বহুল ব্যবহৃত হয়ে থাকে। বৃহৎ আকৃতির পদক মেড্যালিয়ন নামে অভিহিত।

বতর্মানে এই সস্মাননাটি পদক বিজয়ীদের কাজে বা মেধার স্বীকৃতিস্বরূপ না হয়ে ব্যবসায় বা পৃষ্ঠপোষক হিসেবেই ব্যবহৃত হতে দেখাযাচ্ছে বেশ। বাংলাদেশ এবং পশ্চিম বাংলায় মিলেমিশে প্রায় ৯০০০ এর মত চিহ্নিত ব্যাক্তি এই ব্যবসার সাথে নিবিড় ভাবে জড়িত রয়েছেন। তবে এই সংখ্যাটি পাল্লা দিয়ে দিনের পর দিন বেড়েই চলছে! যেন থামানোর কেউ নেই! আর কেনইবা থামাবেন! যিনি থামাবেন তাঁরও যে এই "পদক বা সস্মাননা " নামক সোনার হরিণটি চাই!

পদকপ্রাপ্তদের তালিকায়ও দু’-একজন বিখ্যাত লোক থাকেন। তবে এটি পদক ব্যবসায়ীদের এক ধরনের কৌশল। পদক দেয়ার নামে বাণিজ্য করছে রাজধানীতে এমন চক্র আছে অন্তত হাজারখানেক। এই চক্র বিখ্যাত ব্যক্তিদের নামে পদক দিয়ে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে নেয় অর্থ। টাকা দিলে যে কেউ পেতে পারে তাদের দেয়া পদক আর সম্মাননা। পদক ব্যবসায়ীদের বিষয়ে অনুসন্ধান করলে বেরিয়ে আসবে নানা চমকপ্রদ তথ্য। অর্থের বিনিময়ে পদক দেয় এমন চক্রের কথা আমি জানি। নির্ধারিত অর্থের বিনিময়ে একাধিক পদক দেয়ার প্রস্তাবও আছে তাদের কাছে। এমনকি পদকের ‘মূল্য’ নিয়ে দরকষাকষিও করে তারা।

জানা যায়, রাজধানীসহ সারা দেশে প্রায় পাঁচ শতাধিক ‘সংগঠন’ নামে-বেনামে অর্থের বিনিময়ে এ অনৈতিক পদক ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। শিক্ষা, চিকিৎসা, ব্যবসায়, সমাজসেবা, কৃষি, রাজনীতি, শিল্প, সংগীত, সাংবাদিকতা, সৃজনশীলতা এ রকম অন্তত 25/30 ক্যাটাগরিতে সম্মাননা ও পদক দেয় এসব ‘সংগঠন’।

বিশ্ববরেণ্য ব্যক্তি ভারতের জাতির পিতা মহাত্মা গান্ধী, স্বাধীন বাংলার শেষ নবাব সিরাজউদ্দৌলা, বিশ্ব কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, শান্তিতে নোবেল বিজয়ী মাদার তেরেসা, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম, মজলুম জননেতা মওলানা ভাসানী, দক্ষিণ আফ্রিকার অবিসংবাদিত নেতা নেলসন ম্যান্ডেলা, ভারতের প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী, সাহিত্যিক ঈশ্বর চন্দ্র বিদ্যাসাগর, নারী জাগরণের অগ্রদূত বেগম রোকেয়া, পণ্ডিত অতীশ দীপঙ্কর, বঙ্গবীর এমএজি ওসমানী, শেরেবাংলা একে ফজলুল হক, কবি সুফিয়া কামাল-এমন বিখ্যাত ব্যক্তিদের নামে দেয়া হয় সম্মাননা পদক।

এছাড়া আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস, স্বাধীনতা ও বিজয় দিবসসহ বিভিন্ন বিশেষ দিবসেও দেয়া হয় পদক।জানাগেছে, বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতি চর্চা কেন্দ্র, মাদার তেরেসা গবেষণা পরিষদ, মহাত্মা গান্ধী গবেষণা পরিষদ, বঙ্গবীর ওসমানী গবেষণা পরিষদ, স্বাধীনতা গবেষণা পরিষদ, অতীশ দীপঙ্কর সম্মাননা পরিষদ, শেরেবাংলা একে ফজলুল হক স্মৃতি পরিষদ, কাজী নজরুল ইসলাম সম্মাননা পরিষদ, সুফিয়া কামাল গবেষণা পরিষদ, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা গবেষণা পরিষদ, বিজয় দিবস স্মৃতি পরিষদ, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সম্মাননা পরিষদ, ঈশ্বর চন্দ্র বিদ্যাসাগর গবেষণা পরিষদ- এ রকম অসংখ্য নামে পদক ও সম্মাননা দিচ্ছে অবৈধ সংগঠনগুলো।

আর যারা পদক নেন তাদের বেশির ভাগই রাজধানীর বাইরে থেকে আসা পৌরসভার মেয়র, ওয়ার্ড কাউন্সিলর, ইউপি চেয়ারম্যান, সদস্যসহ বিভিন্ন পেশাজীবীর মানুষ এরা।

যাদের হাতে পদক তুলে দেয়া হয় তারাই মূলত এসব সম্মাননা অনুষ্ঠান আয়োজনের যাবতীয় খরচ বহন করেন। নির্ধারিত অনুষ্ঠানের জন্য সংগঠনগুলো বেছেনেয় জাতীয় প্রেস ক্লাব, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ), সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি মিলনায়তন, ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট, পাবলিক লাইব্রেরি মিলানয়তন, বিএমএ মিলনায়তনসহ রাজধানীর নামকরা হোটেলগুলোকে।

মেধার যোগ্যতার চেয়ে সামান্য (১০০০/- ৫০০০/-) টাকায় মিলে এসব পদক বা সস্মাননা । সমাজের সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে কালোবাজারি কার টেবিলে নাই এটি। এমনটা চলতে থাকলে তবে আমাদের সস্মানিত বা মেধাবী মুখগুলোকে আমরা আলাদা করে চিনব কি করে।

সবচেয়ে আশচর্য বিষয় হলো যেসব সংস্থা বা ব্যাক্তি এই পদক দেয়া-নেয়ার পদক্ষেপ নিতে দেখা যায় এদের বড় অংশই আমাদের সমাজের মূর্খশ্রেণির কিছু অসাধু লোক বা অ-আ, ক-খ জানা কিছু মানুষ!

অসাধু কিছু লোকদের সাথে মিলেমিশে একাকার হচ্ছে আমাদের দেশের সর্বোচ্চ পুরস্কার বা সস্মাননা গুলো।এটি সমাজ রাষ্ট্রের জন্য যেমন অবমাননা তেমন হুমকি স্বরূপও বটে। কারণ আমাদের সমাজে এমন লোকের সংখ্যাও খুব কম নয় যাঁরা কোন পুরুস্কারটি কোন সংস্থা বা প্রতিষ্ঠান দিচ্ছে এর গুরুত্ববা কতটা এরা এটিও জানেন বা বুঝেন না।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে বিষয়টি তা হলো এমন সব পুরুস্কার দেয়াহয় দেশের বা ভিনদেশের বিখ্যাত কারো নামে। পুরুস্কার গুলো প্রদানের দায়িত্বে নিয়োজিত থাকেন দেশের মন্ত্রী আমলা থেকে শুরু করে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায়থাকা অতি উচ্চতর ডিগ্রি বা আসন সম্পন্ন নানান শ্রেণি-পেশার মানুষ! তাদের নানান ছলচাতুড়ে বুঝিয়ে আনাহয় এসব অনুষ্ঠানে।আবার অনেকে নিজের ইচ্ছায়ও আসেন এসব অনুষ্ঠানে। কারন অনুষ্ঠানের একটা বৃহৎ সময়ধরে চলে সাংস্কৃতিক নামের অপসংস্কৃতি।সুন্দরি ললনাদের বিষয়টি আমার লেখায় নাইবা আনলাম।

যদি দেশের ভাল চাই আমাদের মেধাবীদের ভাল চাই তবে এখনই এই মুহূর্তেই এসব ভয়ানক মূর্খদের দূরে ঠেলতে হবে। নিয়ম করে এদের কাছ থেকে দূরে থাকতে হবে।  


লেখক
মো: শিহাব উদ্দীন ভূইঞা
প্রকাশক দি ইউনিভার্সেল একাডেমি এবং বাংলাদেশ জ্ঞান ও শৃজনশীল প্রকাশক সমিতির সাবেক মেলা পরিচালক।  


« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
সম্পাদক ও প্রকাশক: নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, বাড়ি ৭/১, রোড ১, পল্লবী, মিরপুর ১২, ঢাকা- ১২১৬
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: newsnotunsomoy@gmail.com
Developed & Maintainance by i2soft