নতুন সময় প্রতিবেদক
Published : Wednesday, 7 November, 2018 at 12:02 PM, Count : 1924
সংসদ ভেঙে দিয়ে এপ্রিল পর্যন্ত নির্বাচন পেছানোর সুযোগ আছে সংবিধানে

সংসদ ভেঙে দিয়ে এপ্রিল পর্যন্ত নির্বাচন পেছানোর সুযোগ আছে সংবিধানে

সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের ক্ষেত্রে সংসদ ভেঙে দিয়ে ২০১৯ সালের এপ্রিল পর্যন্ত নির্বাচন পেছানোর স্বাভাবিক বিধানই রয়েছে সংবিধানে। আর দৈব-দুর্বিপাক হলে পরবর্তী নব্বই দিনের মধ্যে নির্বাচন করতে পারবে নির্বাচন কমিশন। সংবিধান বিশেষজ্ঞগণ বলছেন, সংবিধানের অন্তত দশটি জায়গায় সংসদ ভেঙে দিয়ে নির্বাচনের কথা বলা আছে। আর সংবিধানে থেকেই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে নির্বাচন করা সম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. শাহদীন মালিক বলেন, সংসদ ভেঙে দিয়ে নির্বাচন করার বিধান বর্তমান সংবিধানেই স্পষ্ট লেখা আছে। সংবিধানের একটি বিকল্প হল যে, সংসদ রেখে নির্বাচন করা যায়। বাকি ১০ জায়গায় হলো সংসদ ভেঙে দিয়ে নির্বাচন করার নিয়ম। সাংবিধানিক কথা হল সংসদ ভেঙে দিয়ে নির্বাচন করা। তাতো আমাদের সংবিধানেই আছে। সংসদীয় গণতন্ত্র হলো সংসদ ভেঙে দিয়ে নির্বাচন করা।

তিনি বলেন, এটা তো অস্বাভাবিক কিছু না। আমাদের অতীতের নির্বাচন, প্রায় বেশীরভাগ নির্বাচন সংসদ ভেঙে দিয়ে হয়েছে। দুনিয়ার সব জায়গায় সংসদ ভেঙে দিয়ে নির্বাচন হয়। কখন কোন সময় সংসদ ভেঙে দিতে হয় তা সংবিধানের ১০ জায়গায় লেখা আছে।

তিনি আরো বলেন, সংবিধান এবং আইনি কাঠামোর ভেতর থেকে অবাধ, নিরপেক্ষ ও অংশীদারিত্বমূলক নির্বাচন করা যেতে পারে। মূলত সদিচ্ছা থাকলে সাংবিধানিক ও আইনি কাঠামোর মধ্যে থেকে সমাধান বের করা সম্ভব।

সংসদ বহাল রেখে ও সংসদ ভেঙে দিয়ে দু’ধরনের পদ্ধতিতে নির্বাচনের কথা বলা হয়েছে সংবিধানের ১২৩ অনুচ্ছেদের ৩ দফায়। তাতে বলা হয়েছে, “সংসদ-সদস্যদের সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হইবে (ক) মেয়াদ-অবসানের কারণে সংসদ ভাংগিয়া যাইবার ক্ষেত্রে ভাংগিয়া যাইবার পূর্ববর্তী নববই দিনের মধ্যে; এবং

(খ) মেয়াদ-অবসান ব্যতীত অন্য কোনো কারণে সংসদ ভাংগিয়া যাইবার ক্ষেত্রে ভাংগিয়া যাইবার পরবর্তী নববই দিনের মধ্যে: তবে শর্ত থাকে যে, এই দফার (ক) উপ-দফা অনুযায়ী অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে নির্বাচিত ব্যক্তিগণ, উক্ত উপ-দফায় উল্লিখিত মেয়াদ সমাপ্ত না হওয়া পর্যন্ত, সংসদ সদস্যরুপে কার্যভার গ্রহণ করিবেন না।]

(৪) সংসদ ভাঙ্গিয়া যাওয়া ব্যতীত অন্য কোন কারণে সংসদের কোন সদস্যপদ শূন্য হইলে পদটি শূন্য হইবার নব্বই দিনের মধ্যে উক্ত শূন্যপদ পূর্ণ করিবার জন্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হইবে। [তবে শর্ত থাকে যে, যদি প্রধান নির্বাচন কমিশনারের মতে, কোন দৈব-দূর্বিপাকের কারণে এই দফার নির্ধারিত মেয়াদের মধ্যে উক্ত নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্ভব না হয়, তাহা হইলে উক্ত মেয়াদের শেষ দিনের পরবর্তী নব্বই দিনের মধ্যে উক্ত নির্বাচন অনুষ্ঠিত হইবে।]”

সংবিধানের এই অনুচ্ছেদ অনুযায়ী যে কোনো সময় সংসদ ভেঙে দিয়ে পরবর্তী নব্বই দিনের মধ্যে নির্বাচন করা যাবে। এ হিসেবে আগামী ২৮ জানুয়ারি সংসদের মেয়াদ শেষ হবে। তার আগে সংসদ ভেঙে দিলে পরবর্তী নব্বই দিন তথা আগামী এপ্রিল মাস পর্যন্ত স্বাভাবিক নিয়মেই নির্বাচন করা যায় বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন। তবে এক্ষেত্রে রাজনৈতিক সদিচ্ছার প্রয়োজন রয়েছে বলেও তারা মতামত দিয়েছেন। এদিকে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নির্বাচন কমিশনকে তফসিল পেছানোর জন্য অনুরোধ জানিয়েছে। কিন্তু গতকাল সিইসি জানিয়ে দিয়েছেন, তফসিল পেছানোর কোনো সুযোগ নেই। সকল দল চাইলে নির্বাচন পেছানো যেতে পারে।
এদিকে নির্বাচনকালীন সময়ে কারা কারা সরকারে থাকবেন এ নিয়ে আলোচনা চলছে। জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট থেকে দাবি করা হচ্ছে নির্বাচনের সময় অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের। তারা বলছেন, সংবিধানে থেকেই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে নির্বাচন করা যায়। কিন্তু এ বিষয়ে পরিস্কার কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি। আজ প্রধানমন্ত্রীর সাথে সংলাপে এ বিষয়গুলো তারা তুলে ধরবেন বলে জানা গেছে।

প্রধানমন্ত্রী তাদের প্রস্তাবে সম্মত হলেই কেবল এটা সম্ভব, অন্যথায় নয়। কেননা সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচনকালীন সময়েও প্রধানমন্ত্রী তার স্বীয় পদে বহাল থাকতে পারবেন। এক্ষেত্রে সংবিধানে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর উত্তরাধিকারী কার্যভার গ্রহণ না করা পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীকে স্বীয় পদে বহাল থাকিতে ৫৭ অনুচ্ছেদের কোন কিছুই অযোগ্য করিবে না। এ বিষয়ে সংবিধানের ৫৭ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে,

“(১) প্রধানমন্ত্রীর পদ শূন্য হইবে, যদি-

(ক) তিনি কোন সময়ে রাষ্ট্রপতির নিকট পদত্যাগপত্র প্রদান করেন;

অথবা (খ) তিনি সংসদ-সদস্য না থাকেন।

(২) সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের সমর্থন হারাইলে প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করিবেন কিংবা সংসদ ভাংগিয়া দিবার জন্য লিখিতভাবে রাষ্ট্রপতিকে পরামর্শদান করিবেন এবং তিনি অনুরূপ পরামর্শদান করিলে রাষ্ট্রপতি, অন্য কোন সংসদ-সদস্য সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের আস্থাভাজন নহেন এই মর্মে সন্তুষ্ট হইলে, সংসদ ভাংগিয়া দিবেন।

(৩) প্রধানমন্ত্রীর উত্তরাধিকারী কার্যভার গ্রহণ না করা পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীকে স্বীয় পদে বহাল থাকিতে এই অনুচ্ছেদের কোন কিছুই অযোগ্য করিবে না।
আর নির্বাচনকালীন সময় কারা সরকারের থাকতে পারবেন এ বিষয়ে সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৫৬ এর দফা ৪ এ বলা হয়েছে “

(৪) সংসদ ভাংগিয়া যাওয়া এবং সংসদ-সদস্যদের অব্যবহিত পরবর্তী সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের মধ্যবর্তীকালে এই অনুচ্ছেদের (২) বা (৩) দফার অধীন নিয়োগ দানের প্রয়োজন দেখা দিলে সংসদ ভাংগিয়া যাইবার অব্যবহিত পূর্বে যাঁহারা সংসদ-সদস্য ছিলেন, এই দফার উদ্দেশ্যসাধনকল্পে তাঁহারা সদস্যরূপে বহাল রহিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবেন।”

অনুচ্ছেদে ৬৫ এর (২) দফায় বলা হয়েছে, “প্রধানমন্ত্রী ও অন্যান্য মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপ-মন্ত্রীদিগকে রাষ্ট্রপতি নিয়োগ দান করিবেন: তবে শর্ত থাকে যে, তাঁহাদের সংখ্যার অন্যূন নয়-দশমাংশ সংসদ-সদস্যগণের মধ্য হইতে নিযুক্ত হইবেন এবং অনধিক এক-দশমাংশ সংসদ-সদস্য নির্বাচিত হইবার যোগ্য ব্যক্তিগণের মধ্য হইতে মনোনীত হইতে পারিবেন।”

আর দফা (৩) এ বলা হয়েছে, “যে সংসদ-সদস্য সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের আস্থাভাজন বলিয়া রাষ্ট্রপতির নিকট প্রতীয়মান হইবেন, রাষ্ট্রপতি তাঁহাকে প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ করিবেন।”
সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচনকালীন সরকারের সংসদ সদস্য নন এমন ব্যক্তি থাকার কোন সুযোগ নেই। আর এ কারণেই গতকাল প্রধানমন্ত্রী টেকনোক্রেটদের পদত্যাগ করতে নির্দেশ দিয়েছেন। আর সে নির্দেশনা বাস্তবায়ন করতে চারজন মন্ত্রী প্রতিমন্ত্রী পদত্যাগ করছেন।



« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
সম্পাদক ও প্রকাশক: নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, বাড়ি ৭/১, রোড ১, পল্লবী, মিরপুর ১২, ঢাকা- ১২১৬
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: newsnotunsomoy@gmail.com
Developed & Maintainance by i2soft